পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ৭০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছিল ৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যানুসারে, চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বসুন্ধরা পেপারের আয়ও কমেছে। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ১৪৩ কোটি ২২ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে একই প্রান্তিকে যা ছিল ৩৪৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় কমেছে দ্বিগুণের বেশি।
চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪ টাকা ৪ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৫২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭১ টাকা ২৬ পয়সায়।
চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) বসুন্ধরা পেপারের আয় হয়েছে ৪১০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬৮৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ১০১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরে যেখানে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছিল ২৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ৮৪ পয়সা। আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৪৬ পয়সা।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি বসুন্ধরা পেপার মিলসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ২ টাকা ৬২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৭৭ টাকা ৬ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৬২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৯২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৭৭ টাকা ৫৪ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল বসুন্ধরা পেপার মিলসের পরিচালনা পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৯২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৩৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৭৪ টাকা ৩১ পয়সায়।
২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বসুন্ধরা পেপার মিলসের অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৭৩ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৭ কোটি ৩৭ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১। এর মধ্যে ৬৬ দশমিক ২১ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বসুন্ধরা পেপারের শেয়ার সর্বশেষ ২৬ টাকায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ২২ টাকা ৫০ থেকে ৭৯ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।